নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য গুদামে মজুদের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের ডাক বাংলা রোডের কালিঘাট এলাকায় একটি গোপন গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মোঃ মুহিবুর রহমান (৩৪) কে আটক করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।
অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে- ভারতীয় চোরাই চিনি ও চাঁল। এসব পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে আটক ব্যবসায়ী সীমান্তপথে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য দেশে এনে স্থানীয় বাজারে পাইকারি বিক্রি করছিলেন। তিনি আরো বলেন, “দেশীয় শিল্প ও বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ করে মকদ্দছ আলী এন্ড ব্রদার্স নামক গুদামটি ঘিরে ফেলে। এরপর ভেতরে ঢুকে তারা কয়েক টন অবৈধ চোরাই পণ্য দেখতে পান। পণ্যগুলো ট্রাকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে অবৈধভাবে চোরাই পণ্য বাণিজ্য করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। যেহেতু মকদ্দছ আলী এন্ড ব্রদার্স নামক গুদামটি ভাড়ায় চালিত পন্য সংরক্ষনাগার, তাই আটক প্রতিষ্টান মালিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আটককৃত পণ্যের প্রকৃত মালিক খুজে বের করে তাহার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।”
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “এভাবে অবৈধ ভারতীয় পণ্য ঢুকতে থাকলে দেশীয় শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই এবং অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানাই।”

