সিলেটSaturday , 10 September 2022
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি

বেবিচকের প্রকল্পে দুর্নীতি

Link Copied!

উপ-সম্পাদকীয় :
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পিঅ্যান্ডডি/কিউএস ভবনের গেট ও ওয়েটিং রুট নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রতিটি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানভীর ট্রেডার্স; উপরন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ২০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে গেছে।

তবে দুঃখজনক হলো, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, সেখানে এ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ব্যাপক তথ্য দিলেও এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত কারও নাম উল্লেখ করেনি। আশ্চর্যজনক হলো, প্রকল্পটির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো ও হুমকি-ধমকি দিয়ে বিল হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই আনা হয়নি।

অন্যদিকে প্রকল্পটি তৈরি করা থেকে শুরু করে টাকা প্রদান পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জন কর্মকর্তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদনে মাত্র একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনকে অনেকটা একপেশে করে ফেলেছে। প্রকল্পের প্রভাবশালী ঠিকাদারসহ রাঘববোয়ালদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অবশ্য এ ব্যাপারে বেবিচক থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি রিপোর্ট প্রদানের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইতঃপূর্বে বেবিচকে গেড়ে বসা দুর্নীতি উৎপাটনের উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে দুর্নীতিবাজ চক্রের হাত থেকে সংস্থাটির যে মুক্তি ঘটেনি; পিঅ্যান্ডডি/কিউএস ভবনের গেট ও ওয়েটিং রুট নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সম্ভাবনাময় এ সংস্থাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে লাগামহীন দুর্নীতির কারণেই।

আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করার মধ্য দিয়ে অর্থ ও সুনাম অর্জনের কাজটি সহজসাধ্য হলেও বর্তমানে বেবিচক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে কেন হিমশিম খাচ্ছে, এর সদুত্তর খোঁজা জরুরি। হতাশাজনক হলো, খোদ প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিরাজমান অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি। মূলত এ কারণেই ছোট্ট একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন দুর্নীতি করার দুঃসাহস দেখানো হয়েছে।

উদ্বেগজনক হলো, বেবিচকের প্রায় প্রতিটি শাখায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। বছরের পর বছর ধরে নানারকম কারসাজি ও ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে প্রায় প্রকাশ্যে সিন্ডিকেট গঠন করে সংস্থাটিতে কমিশন ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অপরাধ চালানো হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।

বেবিচককে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রথম শর্ত হলো, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি অনিয়ম-দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করে সংস্থাটিকে ঢেলে সাজানো। এটি করা গেলে অবস্থার পরিবর্তন হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে এ কাজে সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা মনে করি, শুধু বেবিচক নয়; দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি রোধে সরকারকে অবশ্যই আপসহীন হতে হবে। পিঅ্যান্ডডি/কিউএস ভবনের গেট ও ওয়েটিং রুট নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়কারীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি বেবিচককে পরিচ্ছন্ন ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার