সিলেটSunday , 11 September 2022
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি

বাবুল আক্তার-পিবিআই লড়াইয়ের নেপথ্যে কী

Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম আদালতে ১৬ মাস ধরে চলছে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার আর তদন্ত সংস্থা পিবিআইর আইনি লড়াই। এতে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যার মামলা নিয়েছে নতুন নতুন মোড়। কখনও বাবুলের শ্বশুরপক্ষ তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কখনও বা গেছে বিপক্ষে। বাবুল চাকরি হারিয়েছেন। আবার সেই চাকরি ফেরত পেতে গেছেন প্রশাসনিক টাইব্যুনালে।

বাবুল শুরুতে ছিলেন এ মামলার বাদী। কিন্তু কয়েক বছর পর করা হয় আসামি। মামলার আসামিদের নিয়েও হয়েছে অনেক লুকোচুরি। প্রধান আসামি মুছা মামলার শুরু থেকেই গায়েব। তিনি কোথায় আছেন, কেউ জানে না। মামলার আরও দুই আসামি ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। কিন্তু সেই জবানবন্দির কোথাও বলেননি তাঁরা বাবুল আক্তারের নাম। এভাবে এ মামলার নানা রহস্য ও প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে। নতুন করে পিবিআইপ্রধানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন বাবুল আক্তার। তিনি বারবারই স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘বাবুল আক্তার চতুর লোক। কখন কী বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তিনি যেসব কথা বলেছেন, তা বাস্তবসম্মত কিনা তা তদন্ত করেই বের করা হবে।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আদালতে একের পর এক নতুন পিটিশন দাখিল করে যাচ্ছেন। কখনও নথি থেকে ডকুমেন্ট ‘টেম্পারিং’ বা ঘষামাজার আশঙ্কায় আদালতে পিটিশন দাখিল করেছেন। কখনও আবার পিবিআইর তদন্তে নারাজি দিয়েছেন। সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চট্টগ্রামের আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরও তাতে সম্মতি দেয়নি বাবুলের পরিবার। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেছে পিবিআই। অতি সম্প্রতি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করার নতুন অভিযোগ এনেছেন বাবুল। এ বিষয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সিনিয়র আইনজীবীরা জানান, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ এনে বারবার আদালতে পিটিশন দিচ্ছেন বাবুল। পিবিআইর তদন্তের ওপর তিনি বারবারই অনাস্থা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিতু হত্যা মামলাটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশের মধ্যে একটি আলোচিত ও স্পর্শকাতর মামলা। এ মামলায় বাদী-আসামিপক্ষ সব সময় চাইবে আইনের ফাঁক খুঁজে সুবিধা নিতে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত সঠিক দায়িত্ব পালন করলেই এ মামলার তদন্ত সঠিকভাবে শেষ করতে পারবে তদন্ত সংস্থা। এক প্রশ্নের জবাবে পিপি বলেন, আসামিপক্ষ নিজেকে বাঁচাতে কারণে-অকারণে আদালতে একের পর এক আবেদন-নিবেদন করে থাকে। এটা সবাই বোঝেন। আসামি বাবুল যেহেতু সাবেক এসপি, তাই তিনি তদন্তের ফাঁকফোকর ও ফলাফল ভালো করেই বুঝতে পারছেন।

বাবুলের আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেছেন, মিতু হত্যা মামলায় আমার মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে। পিবিআইর ওপর তাঁদের আস্থা নেই। পিবিআই মামলার কেস ডকেট (সিডি) থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঘষামাজা, টেম্পারিং অথবা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কেস ডকেটের অনুলিপি জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার আবেদন করলে আদালত ১৭ নভেম্বর সিডির একটি অনুলিপি জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তাঁরা পিবিআই ছাড়া অন্য যে কোনো সংস্থাকে দিয়েই মামলার তদন্ত চান। আদালতে বেশ কয়েকবার এসব বিষয় নিয়ে আবেদনও করা হয়েছে।

‘ডকুমেন্ট টেম্পারিং করার আশঙ্কায়’ পিবিআইর ফাইনাল রিপোর্ট ও মিতু হত্যার সব নথিপত্র জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৩ আগস্ট বাবুলের আবেদন গ্রহণ করে আদালত এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, মিতু খুনের পর তাঁর স্বামী বাবুলের বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় করা মামলার সব কাগজপত্র জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখতে হবে।

অন্য আসামিদের সঙ্গে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে আট দিনের ব্যবধানে দুই আদালতে জামিন আবেদন করেন বাবুল আক্তার। কারণ, কোনো মামলার আসামির জামিন আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা জজ কিংবা হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় থাকলে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করেন না আদালত। বাবুল সেই সুযোগ নেন বলে অভিযোগ করে তদন্ত সংস্থা। গত বছরের ১৮ আগস্ট তিনি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বাবুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম জামিন আবেদন করেছিলেন। সেখানেও উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। ১২ মে বাবুলকে পিবিআই হেফাজতে নিয়ে পাঁচ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ ছাড়া বাবুল বাইরের হাসপাতালে থাকতে আদালতে পিটিশন দাখিল করেছিলেন। নিজেকে ‘গুরুতর অসুস্থ’ হিসেবে আদালতে তুলে ধরছেন তিনি। নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও দিয়েছিলেন।

আদালতে বাবুলের দাখিল করা সর্বশেষ পিটিশন হলো, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ। রিমান্ডে নেওয়ার ১৬ মাস পর এসে নির্যাতনের অভিযোগ করছেন আসামি। গত ২২ আগস্ট চার্জশিট দাখিলের সাক্ষ্যস্মারকে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর পিপি ফখরুদ্দিন চৌধুরী। সাক্ষ্যস্মারকে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ জেবুন্নেছা বেগমের আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন বাবুল। সেখানে তাঁকে রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রামের সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হেফাজতে নির্যাতন আইনে মামলা করতে হলে আসামিকে নির্যাতন করা হয়েছে তাঁর শরীরে সেই নির্যাতনের আলামত আছে- এটা প্রথমেই প্রমাণ করতে হয়। ঘটনার অনেক পরে এসে এ আইনে মামলা করলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শরীর পরীক্ষা করে কোনো আলামত পাওয়া না গেলে এ আইনের মামলা টেকে না। বাবুল এসপি থাকায় তাঁর এ আইন জানার কথা।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর মিতু হত্যার প্রথম মামলায় পিবিআইর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন বাবুল। ৩ নভেম্বর আদেশে বাবুলের নারাজি খারিজ করে দেন আদালত। একই সঙ্গে দুটি মামলা একীভূত করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

২০২১ সালের ১১ মে মিতু খুনে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। ১২ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।