সিলেটSaturday , 17 September 2022
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি

বিশ্বজোড়া পাঠশালা ছাত্র, প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া তাপাদার আর নেই!

admin
September 17, 2022 3:24 pm
Link Copied!

আতাউর রহমান:
গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার স্যার আর নেই। তিনি (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২খ্রি.) শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ শনিবার বেলা ২:১৫ ঘটিকায় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে ও দ্বিতীয় জনাজার নামাজ বেলা ৩:৩০ ঘটিকায় ছোটদেশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রফেসর একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার ছিলেন:
বিয়ানীবাজারের এক অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি এক অনর্গলবর্ষী বক্তা হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত ছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, সংস্কৃতিপ্রিয় ও ক্রীড়ামোদী ব্যক্তি।

প্রারম্ভিক জীবন :
বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রামের সন্তান একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার। তিনি ১৯৫৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইসহাক আলী তাপাদার ও মাতার নাম হালিমা বেগম। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি প্রথম।

শিক্ষা জীবন:
একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার এর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয় গ্রামের পাঠশালায়। তিনি পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করে ১৯৭৭ সনে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৭৯ সনে বিয়ানীবাজার মহাবিদ্যালয় থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। একই কলেজ থেকেই ১৯৮১ সনে তিনি গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি একজন সংস্কৃতিমনা ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্মজীবন :
একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার এর স্বপ্ন ছিল উকালতি করবেন। কিন্তু তিনবার ভর্তি হয়েও তাঁর এলএলবি পড়া আর হয়নি। ১৯৮৭ সনে তিনি যোগ দিলেন বিয়ানীবাজারের আদর্শ বিদ্যানিকেতনে (খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতন) শিক্ষকতায়। এখানে কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কুড়ার বাজার কলেজে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করে ২০০১ সনের ২ জুলাই সহকারি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। একই কলেজে ২০০৮ সনের ১৩ মে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। ২০০৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকাস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে কলেজ ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেন। এখানেই ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল সচিব পদে উন্নীত হন। ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে যোগদান করেন। সেখান থেকে ফিরে পুনরায় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড এর সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর প্রফেসর একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ০৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে বয়সজনীত কারণে পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পেশাগতভাবে তিনি শুধুমাত্র শিক্ষক ছিলেন না, তিনি জ্ঞানের পূজারীরূপে বিভিন্ন সভা সেমিনারে রসকাব্যের বক্তাও ছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবন:
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ‘চেয়ারম্যান’ প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া তাপাদারের নাম কে না জানে! কিন্তু তিনি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই দুর্ভেদ্য এবং রহস্যময়। কেননা তাঁর জ্ঞান আহরণের নিরিখে তাঁর কোন প্রকাশনা নেই। এই মানুষটি নিজস্ব ঢঙ এবং বুলিতেই কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার বক্তৃতায় যেসব দর্শন, মতবাদ, চিন্তাচেতনা কিংবা পান্ডিত্যের রেশ ফুটে উঠতো, তাতে মনে হতো তিনি যেন এক বিশ্বজোড়া পাঠশালার ছাত্র। তাঁর ভাষায়- শিক্ষকতা কোন পেশা নয়; এটি একটি মহান সেবা। তিনি বিজ্ঞান নির্ভর তারুণ্যের আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। তিনি মনে করতেন, সবাইকে বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই, জাতি গঠনে বিজ্ঞানমনষ্ক হলেই দেশ উন্নতি লাভ করবে।

প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া আরো বলতেন, শিক্ষা একটি মাত্র যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। শুধু তথ্য-উপাত্ত দিয়ে শিক্ষার্থীর মনের ভার বাড়ানোকে শিক্ষা বলা যায় না। শিক্ষার কাজ হচ্ছে সূচনা করা, যার মাধ্যমে মানুষের মনের চোখ জ্ঞানের অনির্বাণ আলোর দিকে ফেরাতে পারে।

ছাত্রজীবনে গোলাম কিবরিয়া তাপাদার ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র ইউনিয়ন’ এর রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে তিনি সিপিবি’র রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব বিয়ানীবাজার, বিয়ানীবাজার ক্রীড়া সংস্থা, বিয়ানীবাজার ফাউন্ডেশন, বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক ক্লাবসহ আর্থসামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।

মোদ্দা কথা, প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া তাপাদার একজন সদালাপী ও পরোপকারী লোক ছিলেন। তাঁর মনের আচরণসুলভ নির্মল হাসি যে কাউকে মুগ্ধ করতো। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে সিলেটের বিভাগীয় শহরের শাহজালাল উপশহরে জীবনযাপন করতেন।

তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত। মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।
লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। প্রধান শিক্ষক, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রাক্তন সভাপতি- বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 997 বার