সিলেটTuesday , 27 September 2022
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি

মায়ের লাশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরলেন ছেলে

Link Copied!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় সময় যত যাচ্ছে লাশের সারি তত দীর্ঘ হচ্ছে। করতোয়া নদীর তীরে এখন স্বজনহারাদের আর্তনাদ। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে, কেউ আবার হারিয়েছেন কলিজার টুকরা সন্তানকে আবার কেউ পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে নির্বাক।

করতোয়ার তীরে স্বজনরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের লাশের আশায়। রোববার দুপুর থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকে পেয়েছেন প্রিয় স্বজনের লাশ। আবার অনেকে প্রিয়জনকে না পেয়ে ফিরে গেছেন। তেমনই একজন ডাবলু কুমার বর্ম্মন।
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। একটার পর একটা লাশ আসে। লাশের কথা শুনলে দৌড়ে সামনে যাণ। এই বুঝি আমার মায়ের লাশ এলো। কিন্তু ৫০টি মরদেহ উদ্ধার হলেও মায়ের লাশ এখনো পাননি তিনি।

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডাবলু কুমার বর্ম্মন। তাদের পরিবার থেকে চারজন সদস্য মহালয়া দেখার জন্য নৌকাতে ওঠে। দুজন বাড়িতে ফিরলেও বউদি ও মা শৈলবালার (৫৫) কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই ঘাটে অপেক্ষা করছেন মায়ের লাশের আশায়।

ডাবলু কুমার বর্ম্মন বলেন, রোববার ১টার দিকে সবাই বাড়ি থেকে বের হয়। যখন শুনলাম ডুবে গেছে তখন কাজ ফেলে চলে আসি। চার সদস্য আমাদের বাড়ি থেকে মহালয়া দেখতে যাচ্ছিল। তার মধ্যে দুই সদস্য বাড়ি গেছে। আমার মা আর বউদিকে এখনো পাইনি। আমি নিশ্চিত আমার মা মারা গেছেন। আমি অনুরোধ করব আমার মায়ের লাশটা আমাকে এনে দেন। আমি যাতে নিজ হাতে সৎকার করতে পারি।

প্রসঙ্গত, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার আউলিয়া ঘাটে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫১টি মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর আনুমানিক এখনো ৪০ জন নিখোঁজ আছেন বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি কমবেশি হতে পারে। আর মৃতদের প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার খরচ জেলা প্রশাসন বহন করবে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলার ইতিহাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এটি। দুই দিনে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আমরা ৫১টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছি। সন্ধ্যা হওয়ায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার শুরু হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 989 বার