সিলেটMonday , 10 October 2022
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি

মানব পাচারকারী চক্রের তালিকা হচ্ছে, গ্রেফতার ২

Link Copied!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
দালালের মাধ্যমে স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামে তরুণ একওয়ান ইসলামের (১৯)। কিছুদিন আগে একওয়ানের মরদেহে গ্রামের বাড়ি আসে।

এ ঘটনায় নিহত তরুণের পরিবার জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের’র পর থেকে মানব পাচারকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।
সুনামগঞ্জে মানব পাচারকারী চক্রে কারা রয়েছে এমন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তালিকা করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ জানিয়েছেন।

সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একওয়ান হত্যা ও মানব পাচার আইনে গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ বলেন- ‘একওয়ানের ঘটনায় মানব পাচার আইনে শ্রীধরপাশা গ্রামের চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের’র পর আসামীরা পলাতক ছিল। কিন্তু পুলিশী তৎপরতায় গতকাল রোববার (৯ অক্টোবর) মামলার এজহারভুক্ত আসামি আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে গ্রেফতার করে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ।

এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১টি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ব্যাগের ভিতর রাখা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭টি মোবাইল ফোন, ১টি এটিএম কার্ড ২টি ব্যাংক চেকসহ ১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। মামলা অপর দুই আসামি আবুল হোসেন এর পুত্র আলী হোসেন ও তার আত্মীয় সালেহ আহমদ লিবিয়ায় অবস্থান করছে। তাই আপাতত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান- দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে ইউরোপ পারি দিচ্ছেন। লিবিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাগর পারি দিতে গিয়ে কেউ মারা যাচ্ছেন। কেউ দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দালাল চক্রের কারণে একওয়ানের পরিবারের মতো অনেকে পরিবার সর্বস্ব হারাচ্ছেন। পুলিশ একওয়ানের মামলায় চক্রের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি দুইজনকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সুনামগঞ্জে যেসব মানব পাচারকারী রয়েছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান- আমরা জেলার মানবপাচারকারী চক্রের তালিকা তৈরি করছি। তালিকা তৈরির পরে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে মানবপাচারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে দালালদের খপ্পরে পা না দেয় বিট পুলিশের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য- গত বছরের মার্চ মাসে জগন্নাথপুরের শ্রীধরপাশা গ্রামের দালাল আলী হোসেনের মাধ্যমে ১৯ লাখ টাকা চুক্তিতে ইতালি যেতে লিবিয়া যান কৃষক তরিকুল ইসলামের ছেলে একওয়ান। সেখানে পৌঁছার পর দালাল চক্র তাঁকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালায়। তাকে সেখান থেকে রক্ষা করতে চুক্তির টাকায় দফা দফায় প্রদান করে একওয়ানের পরিবার। চুক্তিমতে টাকা দিলেও ইতালি না পাঠালে লিবিয়া থেকে ছেলে দেশে ফেরত নিয়ে আসার জন্য দালালকে চাপ দেন একওয়ানের বাবা। কিন্তু সে দেশে ফেরত পাঠায় নি। চলতি বছরের জুন মাসে দালাল আলী হোসেন ও তার সহযোগী সালেহ আহমদ লিবিয়ায় অবস্থানরত মাফিয়ার দ্বারা একওয়ানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং খাবার না দিয়ে অমানবিকভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় একুয়ানের লাশ দেশে আসে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়িতে একওয়ানের দাফন করা হয়।