বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনগ্রামে জান্নাত আরা ঝুমি (২০) নামক এক যুবতী সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে স্থানীয় কোনাগ্রামের রুস্তুম আলীর কন্যা। ১৩ নভেম্বর সোমবার রাত প্রায় ১০ টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহতের প্রেমিক মো: নাজির হুসাইন (২৩) কে আত্মহত্যায় প্ররচনায় দায়ে আসামী করে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের পুত্র এম ডি নাজির হুসাইন এর সাথে জান্নাত আরা ঝুমির দীর্ঘ দিন থেকে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। কিন্তু ঝুমির পরিবার সেই সর্ম্পক মেনে না নিয়ে তাকে জোরপূর্বক অন্যত্র বিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করে। এতে প্রায় দুই বছর পূর্বে প্রেমিক যুগল স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে ঝুমির পরিবার এই সর্ম্পক মেনে নিয়েছে বলে স্থানীয় কাউন্সিলরদের সহযোগীতায় প্রেমিক যুগল কে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ঝুমির পরিবার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাকে জোরপূর্বক অন্যত্র বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। একই সাথে প্রেমিক এম ডি নাজির হুসাইনকে মামলা ও হামলার হুমকী দেয়। সম্প্রতি ঝুমির মতামত উপক্ষো করে ইংল্যান্ড প্রবাসী এক আত্মীয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। এই অবস্থায় ঘটনার দিন ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যা অনুমান ৭টার দিকে জান্নাত আরা ঝুমি তার নিজ শয়ন কক্ষে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঝুমির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির লোকজন একত্র হয়ে ডাকাডাকি করেও কোন উত্তর না পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেছানো অবস্থায় জান্নাত আরা ঝুমির লাশ ঝুলছে। পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এই ঘটনায় পরদিন রাতে নিহত জান্নাত আরা ঝুমির পিতা রুস্তম আলী বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে মেয়ের প্রেমিক এম ডি নাজির হুসাইনকে একমাত্র আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ২৯, তারিখ ১৪/১১/২০২৩ইং।
এই বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার হোসেন বলেন, প্রাথমিক সুরতহালে দেখা যাচ্ছে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে একজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেছে। আইনের হাত থেকে কোন অপরাধী রেহাই পাবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৮৩১-১৬৯৯৮৫
ই-মেইল: thedailysylhetkantha@gmail.com