সিলেটSunday , 23 June 2024
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিচিত্র সংবাদ
  10. বিনোদন
  11. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  12. ব্রেকিং নিউজ
  13. মতামত
  14. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু
  15. রাজনীতি
সবখবর

সিলেটে হয় অ ভি যা ন, তবু থামে না চিনি চো রা চা লা ন

admin
June 23, 2024 12:44 am
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটে একের পর এক ধরা পড়ছে ভারতীয় চোরাই চিনির চালান। একেক অভিযানে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা থেকে ধরা পড়ে কোটি টাকার চিনি। একেক অভিযানে বিশাল অংকের টাকার চিনি আটক হলেও থামছে না চোরাচালান। বরং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক নজরদারির কারণে চোরাকারবারীরা পাল্টেছে কৌশল। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘বুঙ্গার চিনি’ গন্তব্যে নিয়ে আসতে তারা নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।

ট্রাকভর্তি চিনির উপর পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য রেখে চোরাকারবারিরা তাদের গন্তব্যযাত্রা নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে এমন একাধিক চালান আটকের পর বিষয়টি নজরে আসে।

 

অপরদিকে, সিলেট জেলার সবকটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করলেও থামছে না চোরাচালান। জলমগ্ন সড়ক দিয়েই ছুটছে ভারতীয় চোরাই চিনির গাড়ি।

সচেতন মহলের মন্তব্য- এসব চোরাকারবারের মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আসা পর্যন্ত এই অপরাধ থামবে না। কারণ- মূল হোতারা ধরা না পড়ায় একের পর এক চোরাই চিনির বড় চালান ভারত থেকে নিয়ে আসছেন। মাঝে-মধ্যে তাদের দু-একটি চালান ধরা পড়লেও পরবর্তী দু-এক চালানে তারা সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন। পুলিশের অভিযানে চিনি ধরার সময় আটক হন গাড়ির চালক বা হেলপার। মূল কারবারিরা রয়ে যান আড়ালেই।

 

জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে চিনি নিয়ে আসে। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে চিনির মূল্য প্রায় অর্ধেক হওয়ায় অধিক মুনাফার লোভে অনেকেই জড়াচ্ছেন চোরাকারবারে।

চোরাচালানের সাথে বেড়েছে চোরাকারবারীর সংখ্যাও। গেল প্রায় একবছর ধরে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চিনি চোরাচালান হলেও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ি ছিল কম। সম্প্রতি সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসহ শহরে ঢুকার সবকটি প্রবেশমুখে পুলিশী নজরদারি বাড়ায় চোরাকারবারীরা বুঙ্গার চিনি’ নামে পরিচিত ভারতীয় চিনি পরিবহনে কৌশলী হয়েছে।

 

সর্বশেষ শুক্রবার (২১ জুন) বিকালে ট্রাকে পাথরের নিচে করে ২৪৫ বস্তা চোরাই চিনি সিলেটে নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এসময় চিনিগুলো জব্দ ও একজনকে আটক করে শাহপরাণ থানাপুলিশ। শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে শিবগঞ্জের হাতিমবাগস্থ তামাবিল-সিলেট সড়কের সৈয়দ হাতিম আলী মাজার সামনে থেকে এসব অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। চিনির বস্তাগুলো পাথরের স্তরের নিচে ছিলো। এসময় আটককৃত মো. রাসেল আহমেদ (৩২) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তিনি জৈন্তাপুরের ঠাকুরের মাটি এলাকার মো. আবুল আমিনের ছেলে।

 

পুলিশ জানায়, শাহপরাণ সুরমা গেইট বাইপাস এলাকায় তাদের সিগন্যাল অমান্য করে একটি পালালে ধাওয়া করে শিবগঞ্জ এলাকায় এসে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে গাড়ি তল্লাশি করে পাথরের স্তরের নিচে ২৪৫ বস্তা চোরাই চিনি পাওয়া যায়। এসব চিনির বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে শাহপরাণ বাইপাস সড়কের বিকেএসপি’র সামনে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চিনি বোঝাই একটি ট্রাক আটক করে শাহপরাণ থানাপুলিশ। থ্রিপল দিয়ে মোড়ানো ট্রাকটি আটক করে প্রথমে সেটি ভাঙা পাথরবোঝাই দেখতে পান। পরে পুলিশ সদস্যরা ট্রাকের উপর থেকে কিছু পাথর সরালে বের হয়ে আসে আসল ঘটনা। প্রায় তিন ইঞ্চি পাথরের স্তরের নিচ থেকে বের হয়ে আসে ভারতীয় চিনির বস্তার স্তুপ। আটক ট্রাকটি থানায় নিয়ে আনলোড করা হয় চিনির বস্তা। ট্রাকে মিলে ২৭৫ বস্তা ভারতীয় চিনি। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ট্রাক চালক হবিগঞ্জ জেলা সদরের নিজামপুরের মো. আকসির মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়াকে আটক করা হলেও চিনির মূল মালিক রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর আগে গত ১৪ জুন একই কায়দায় পরিবহনের সময় ২০০ বস্তা ভারতীয় চিনি বোঝাই একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। এসময় দুইজনকে আটক করা হয়।

সিলেটে সবচেয়ে বড় ভারতীয় চিনির চালান আটক হয় গত ৬ জুন। মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁওয়ের ভাদেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে পুলিশ ১৪টি ট্রাক ভর্তি ২ হাজার ১১৪ বস্তা ভারতীয় চিনি উদ্ধার করে। প্রায় পৌণে ুই কোটি টাকা মূল্যের চিনির ওই চালানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জন আটক হলেও মূল হোতারা এখনো অধরা।

এক সাথে ১৪ ট্রাক চিনি আটকের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর কয়েকদিন চোরাকারবারীরা সতর্ক ছিল। প্রায় বন্ধ ছিল চোরাকারবার। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে ফের শুরু হয় চোরাকারবারের মহোৎসব।

গত ১৫ জুন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলাতৈল এলাকা থেকে ১১ ট্রাক ভারতীয় চিনির চালান আটক করে বিজিবি। কিন্তু অভিযানকালে কোনো চোরাকারবারীকে আটক করতে পারেনি তারা। আটককৃত চিনির মূল্য ছিল প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

এদিকে, বন্যার মাঝেও থেমে নেই চিনি চোরাচালান। সীমান্ত এলাকা থেকে জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে চোরাকারবারীরা চিনি নিয়ে আসছে মহাসড়কে। সেখানে বড় ট্রাক লোড করে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট শহরে। শহরের বিভিন্ন গোদামে রেখে ভারতীয় সীলযুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

চিনি চোরাচালান প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, সিলেট মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে পুলিশের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। পুলিশ সতর্ক থাকায় প্রায়ই ভারতীয় চিনির চালান মহানগরে ঢুকতে পারছে না, এর আগেই ধরা পড়ছে। চোরাকারবারীরা কৌশল পরিবর্তন করেও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার