স্টাফ রিপোর্টার:
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাদের পূর্ব নির্ধারিত সিলেটের কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল করে সমঝোতায় অন্যদলকে ছাড় দিয়েছে নানা সমীকরণ মিলিয়ে। রাজনৈতিক মাঠে এনসিপির প্রার্থীদেরকে দুর্বল মনে হওয়ায় সিলেটের কোন আসনেও তাদের ছাড় দেয়নি জামায়াত।এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে সিলেট বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। যার জন্য সমঝোতায় সিলেটে ১৯টির মধ্যে জামায়াত ১০টি নিজেদের প্রার্থীদের দিয়েছে। সেই সাথে সীমান্তবর্তী এলাকার আসনগুলোকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। সিলেটের সীমান্তবর্তী কয়েকটি আসনে দলের হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলটি। এদিকে সিলেটের দুটি আসনে এবার লড়াই হবে দুই মাওলানার মধ্যে। দুজনই ভোটের মাঠে খুব হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোটের মাঠে সিলেটের এই দুটি আসনে খেলাফতের দুই প্রার্থী অনেক পিছিয়ে রয়েছেন বলে ভোটারদের ধারণা। যার জন্য এই দুটি আসন সমঝোতায় ছাড়দেয় জামায়াত।জামায়াত নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের জোট এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াত, শরিক দল, দোদুল্যমান এবং বিএনপিবিরোধী ভোট যোগ করলে সংখ্যাটি বেশ বড়। ফলে শরিকদের দুর্বল আসন ছাড়া হয়নি। তাদের হিসাবে, সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের ১০টি জামায়াত এগিয়ে রয়েছে।সূত্র জানায়, সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াত তাদের প্রার্থী বদল করে শরীকদের যে আসন দিয়েছে সেগুলোতে ভোটের অঙ্ক মিলাতে প্রার্থীদের জন্য খুবই কষ্টকর। কারণ এই আসনগুলোতে বর্তমান প্রার্থীদের চেয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য লালন করার পাশাপাশি পূর্বের অনেক পাওয়া না পাওয়া নিয়ে হিসেব-নিকেশ কষছেন ভোটাররা। সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসীর আলী। তার সাথে ভোটের মাঠে তৎপর বিএনপির প্রার্থী ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদি লুনা। এই আসনে লুনা খুবই হেভিওয়েট প্রার্থী। সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের প্রার্থিতা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। বিএনপি’র আসন ভাগাভাগির সময় তার প্রার্থিতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এবারো এ আসনটি ছাড় দিলো বিএনপি। তবে জট লেগেছিল ১১ দলের প্রার্থী নিয়ে। আসনটি চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী জেলার নায়েবে আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান। খেলাফত মজলিসও এ আসন চায়। আসনে তাদের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে নাটকীয়তার অন্ত ছিল না। জামায়াত নেতারা আসনটি ছাড়তে চাননি। শেষ পর্যন্ত তারা জোটের সমঝোতায় এই আসন ছাড়তে হয় তাদের। এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছে চাকসু মামুন (বহিষ্কৃত)। এ আসনটি সাবেক জামায়াতেরও। ফলে জামায়াতের ভোট ব্যাংক রয়েছে। একইসঙ্গে খেলাফত মজলিসেরও ভোট ব্যাংক আছে। ফলে এ আসনে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা।
জানা যায়,সিলেটের ১৯ আসনের ১০টি জামায়াত রেখে বাকিগুলো ইসলামী আন্দোলন এবং দুই খেলাফতকে ছাড়ে। সিলেটের যে ১০টি আসনে সরাসরি নির্বাচনে লড়বেন জামায়াত প্রার্থীরা সেগুলো হচ্ছে, সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৩ ( দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে সেলিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে অ্যাডভোকেট শিশির মনির, সুনামগঞ্জ- সুনামগঞ্জ- ৪ (সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে মো. সামছ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম,, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মো. সায়েদ আলী ও হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান। এছাড়া সিলেট বিভাগে ৫টি আসন পেয়েছে খেলাফত মজলিস। এরমধ্যে সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসীর আলী। সিলেট-৫ আসনে (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন এলাকার জনপ্রিয় আলেম খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা আবুল হাসান। মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রার্থী মোহাম্মাদ লুৎফুর রহমান কামালী, হবিগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী কেন্দ্রীয় আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদের। সমঝতোয় সিলেট বিভাগের দুটি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহিনুর পাশা চৌধুরী ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী।
সিলেট-৫ আসনটি ছাড়ার পর জামায়াতের প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন তার নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সকল শ্রেণি-পেশার মেহনতি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা যেভাবে আমাকে আপনাদের আপনজন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের সবাইকে সামগ্রিক কল্যাণ দান করুন ও নিরাপদে রাখুন, আমিন। আমরা সকলেই সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল ও অনুগত। ইনশাআল্লাহ্, আমরা সবাই মিলে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যাবো।’

