স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শিশুদের সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনী চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কাশিপুর গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও টিনসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাচনী চন্ডিপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছয়-সাত বছর বয়সী ছেলে বাড়ির সামনে দিরাই-শাল্লা সড়কে সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় পাশের শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হাফিজুর মিয়ার ছেলে সাইকেলটি নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বাদশা মিয়া হাফিজুর মিয়ার বাড়িতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে হাফিজুর মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
চন্ডিপুর গ্রামের আফিয়া বেগম বলেন, “হঠাৎ করেই হামলা চালানো হয়। আমরা ঘটনার কিছুই জানতাম না। আমার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আসবাবপত্র ও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকাটি বাড়ির পাশে মাটি ভরাটের কাজের জন্য রাখা ছিল। আমাকে ইটের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।”
একই গ্রামের মোবাশ্বির বলেন, “ঘটনা অন্যজনের সঙ্গে হলেও আমার বাড়িতে হামলা কেন করা হলো বুঝতে পারছি না। ঈদের নামাজ শেষে এসে দেখি চিৎকার-চেঁচামেচি চলছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, ফ্রিজ থেকে জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। ধান বিক্রির ১০ লাখ টাকা রাখা ছিল, সেটিও লুটে নিয়েছে। এছাড়া মোবাইল, টর্চলাইট ও কয়েক বান টিনও নিয়ে গেছে।”
লাদেন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে মারধর করে আমার মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। তিন দিন আগে ‘ডিসকভার’ মোটরসাইকেলটি কিনেছিলাম।’
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, “কাশিপুর গ্রাম এখান থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে। নামাজ শেষে এসে দেখি কাশিপুর গ্রামের লোকজন ট্রলিতে করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এমনকি চন্ডিপুর গ্রামের জমিতে গরু ছেড়ে ফসল নষ্ট করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে।”
এ বিষয়ে কাশিপুর গ্রামের হাফিজুর মিয়ার পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ওয়ার্ড সদস্য টিপু সুলতান বলেন, ‘লুটপাটের বিষয়ে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জনকে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। লুটপাটের বিষয়ে আমরা শুনেছি। কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৮৩১-১৬৯৯৮৫
ই-মেইল: thedailysylhetkantha@gmail.com