নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সিলেটে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করে সিলেটের প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নগরভবনে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, জনবল সীমিত হলেও অতিরিক্ত জনবল ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে আমরা এই ক্যাম্পেইন সফল করব। কারণ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
তিনি জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি সিলেট নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন।
ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মানুষকে এই কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।” পাশাপাশি জুমার খুতবা ও ধর্মীয় উপদেশের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় সচেতনতার অভাবে শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ে কোনো শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. ফজলুল কাদের এবং ইউনিসেফের ডা. নভজ্যোতি দে। এ সময় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সারা দেশের মতো সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০২৬ শুরু হবে। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ করে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা প্রদান করা হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৬৮ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে এ টিকা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি পর্যায়ে এবং পরবর্তী ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন ৮৪টি টিম এ কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে, প্রতিটি টিমে থাকবেন ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী। কমিউনিটি পর্যায়ে ৮ কর্মদিবস এবং স্কুল পর্যায়ে ৬ কর্মদিবস এই ক্যাম্পেইন চলবে।
কমিউনিটি পর্যায়ে সিসিকের নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে না পারলে পরবর্তীতে স্থায়ী কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো হল- সিলেট সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মডেল ক্লিনিক, ধোপাদিঘীরপাড় বিনোদিনী নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কুমারপাড়া ওসমান মিয়া মাতৃসদন ও শিশু হাসপাতাল সিলেট।

