স্পোর্টস ডেস্ক :
২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল কিলিয়ান এমবাপের দল। তবে ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। জিততে পারলে পরপর দুই বিশ্বকাপ জয়ী দলের তালিকায় নাম লেখাত ফরাসিরা।
এদিকে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। লিওনেল স্কালোনির দল এবারও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের সামনে রয়েছে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।
এর আগে ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে এবং ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে পরপর বিশ্বকাপ জিতেছিল।
চার বছর আগের মতো এবারও শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী স্কালোনি। তিনি জানেন, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে বিশ্বকাপে যেকোনো কিছুই হতে পারে বলে মনে করেন এই কোচ।
স্কালোনি বলেন, ‘আমরা ভালো আছি এবং মুখিয়ে আছি। আমরা জানি প্রতিপক্ষরা আমাদের ভিন্নভাবে দেখবে, কারণ আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা সেখানে থাকব। এরপর তো ফুটবল, সেখানে যেকোনো কিছুই হতে পারে।’
বিশ্বকাপে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের কীর্তি প্রথম গড়েছিল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ১৯৩৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিল তারা। কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে ইতালি তখন টানা অপরাজিত ছিল।
১৯৩৬ সালের অলিম্পিক ফুটবলেও স্বর্ণ জেতে ইতালি। এরপর ১৯৩৮ বিশ্বকাপে নরওয়ে, স্বাগতিক ফ্রান্স ও ব্রাজিলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে পরবর্তী বিশ্বকাপ বিলম্বিত হওয়ায় টানা তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি তাদের।
পরপর দুই বিশ্বকাপ জয়ী দ্বিতীয় দল ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারায় তারা।
১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপেও শিরোপা ধরে রাখে ব্রাজিল। গ্রুপপর্বে পেলে চোটে ছিটকে গেলেও গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোদের নৈপুণ্যে দলটি ফাইনালে ওঠে। সেখানে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

