সিলেটরবিবার , ২৪ মে ২০২৬
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. প্রবাস
  10. বিচিত্র সংবাদ
  11. বিনোদন
  12. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  13. ব্রেকিং নিউজ
  14. মতামত
  15. রাজনীতি

রেল ও বাস যাতায়াতে টিকিট সংকট আর কত?

admin
মে ২৪, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সম্পাদকীয় :
গত কয়েক বৎসর ধরিয়া বিশেষত ঈদ উৎসবের আগে ও পরে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সংকট হিসাবে দেখা দিয়াছে টিকিটের প্রাপ্তি। গতকাল ইত্তেফাকে এই সংক্রান্ত একটি পাঠকের অভিমত প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাতে বলা হইয়াছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা কিম্বা বগুড়ার অধিবাসীরা জীবিকার তাগিদে, চিকিৎসার্থে কিংবা শিক্ষার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত করিয়া থাকেন; কিন্তু উৎসবের সময় এই জনপদের সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাস ও ট্রেনের একটি টিকিট সংগ্রহ করা যেন যুদ্ধজয়ের সমতুল্য হইয়া উঠিয়াছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়াছে সত্য: কিন্তু টিকিট বিক্রির আধুনিক অনলাইন ব্যবস্থা এখন সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে চরম ভোগান্তির কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

সাধারণ সময়েও এইরূপ সমস্যা কমবেশি যে দেখা যায় না তাহা নহে। তবে ঈদ, পূজা বা অন্য কোনো বড় ছুটির মৌসুমে এই সংকট মহামারি রূপ ধারণ করে। টিকিট বিক্রয় শুরু হইবার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনলাইন সার্ভার হইতে প্রায় সমস্ত টিকিট অদৃশ্য হইয়া যায়। অথচ তাহার পরমুহূর্তেই একই টিকিট বিভিন্ন কালোবাজারি, দালাল ও অননুমোদিত মাধ্যমে দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্যে বিক্রয় হইতে দেখা যায়। ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’, ‘একতা এক্সপ্রেস’, ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ কিংবা ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’-এর মতো ট্রেনগুলি উত্তরবঙ্গের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার কারিগরি দুর্বলতা, সার্ভারে প্রবেশে জটিলতা, পেমেন্ট আটকাইয়া যাওয়া এবং টাকা কাটিয়া লইবার পরেও টিকিট নিশ্চিত না হইবার মতো বিবিধ ত্রুটিবিচ্যুতি যাত্রীদের চরম বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলিতেছে। বিশেষ করিয়া গ্রামাঞ্চলের অল্পশিক্ষিত মানুষ এই প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে পড়িয়া প্রতিনিয়ত প্রতারিত হইতেছেন।

কেবল ট্রেন নহে, দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও একই বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বিদ্যমান। অনলাইনে প্রদর্শিত ভাড়ার সহিত কাউন্টারের ভাড়ার বিস্তার গরমিল লক্ষ করা যায়। ছুটির দিনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ও যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হইয়াছে। তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করিয়াছে। এই সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু চক্র নানাবিধ গুজব ছড়াইয়া টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অথচ গণ-পরিবহন কেবল কোনো বাণিজ্যিক মাধ্যম নহে, ইহা মানুষের জীবন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবিকার সহিত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থার এই অব্যবস্থাপনা কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নহে, ইহা লক্ষ লক্ষ মানুষের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি। এই সংকট হইতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে মুক্তি দিতে প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। প্রথমত, সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করিতে হইবে। অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ সামলাইবার জন্য অনলাইন সার্ভারকে করিতে হইবে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক। দ্বিতীয়ত, কালোবাজারি দমন করিতে হইবে। দালাল চক্র ও অবৈধ টিকিট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প নাই। তৃতীয়ত, গ্রামাঞ্চলের মানুষের সুবিধার জন্য সহজ ভাষায় অনলাইন টিকিট ক্রয়ের নির্দেশিকা ও প্রচারের ব্যবস্থা করিতে হইবে। চতুর্থত, প্রতিটি রেল স্টেশন ও বাস কাউন্টারে সার্বক্ষণিক তথ্যকেন্দ্র চালু রাখিতে হইবে, যাহাতে কোন টিকিট কতটি অবিক্রীত রহিয়াছে, তাহা প্রকাশ্য থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, কর্তৃপক্ষ যদি এই বিষয়ে আন্তরিক না হন, তাহা হইলে উত্তরবঙ্গের মানুষের এই নিয়তি-নির্ধারিত যাতায়াত ভোগান্তি কখনো দূর হইবে না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট মহল অবিলম্বে এই টিকিট সংকটের সমাধানে সচেষ্ট হইবেন। এই সময় চাহিদা অনুযায়ী গণ-পরিবহণের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় এবং সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়-তাহা ভাবিয়া দেখিতে হইবে।