স্টাফ রিপোর্টার:
এবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মত কর্মস্থলে না আসা ও আগেই কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি বিশেষ দল হাসপাতালটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে চিকিৎসকদের কর্মকন্টা না মানার সত্যতা পায়।
অভিযানে অংশ নেওয়া দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারের অভিযানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিগত ৩০ দিনের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য যাচাই করা হয়। এ সময় ডিউটি রেজিস্টার ও ছুটি সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। নথিপত্র ও উপস্থিতির চিত্র বিশ্লেষণ করে দুদক টিম দেখেছে যে, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে দায়িত্ব পালন করছেন না।
তিনি জানান, তদন্ত দল সরেজমিনে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করে। রোগীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ পরিচালক সুবেল আহমদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, আমরা চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে সব নথিপত্র ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংগৃহ করেছি। আরর কিছু তথ্য আগামীকাল পাবো। সবগুলো তথ্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে ঢাকা কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রতিবেদন হবে। এরপর ঢাকার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরি করলে অবশ্যই চিকিৎসকদের সরকার নির্ধারিত কর্মঘন্টা মানতে হবে। এই সময়ে কেউ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে সেটা গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।
এরআগে গত ১ আগস্ট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৮৩১-১৬৯৯৮৫
ই-মেইল: thedailysylhetkantha@gmail.com