-এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন
চরিত্র অমূল্য সম্পদ। এই অমূল্য সম্পদকে রক্ষা করা বড়—ই কঠিন। স্বাস্থ্য নষ্ট বা খারাপ হলে ভালো খাবার বা ঔষধ সেবন করলে সুস্থ হওয়া যায়। অর্থ বা টাকা পয়সা না থাকলে আবার কোন এক সময় অর্থ ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু চরিত্র নষ্ট বা খারাপ হলে তাহা কিন্তু পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নহে। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। দুনিয়াতে যত অপকর্মই করি না কেন, “নেকির মুনকির” নামে দুইজন ফেরেশতা সার্বক্ষণিক আদম সন্তানকে নজরদারিতে রাখেন? ভালো—মন্দ কাজ লিপিবদ্ধ করা—ই তাঁহাদের দায়িত্ব। যতই লুকিয়ে পাপ বা নিষিদ্ধ কাজগুলো করি না কেন, দিন শেষে সব—ই প্রকাশ করে দেবেন অদৃশ্য শক্তিদ্বয়।
সাবেক জামায়াত নেতা সদ্য দল থেকে বহিস্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম এমপি। মুখে লালন করিতেন ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার কিন্তু বুকে ধারন করিতেন ভিন্ন চরিত্র। তা কিন্তু প্রকাশিত হয় ১৯ বৎসর বয়সী মরিয়ম (কথিত নাতিন) এর মাধ্যমে। জনাব নজরুল এর অর্জিত সকল মান, সম্মান, যাহা কিছু অর্জন করেছিলেন কিছু সময়ের আচরনের মাধ্যমে সর্বস্ব হারিয়ে ফেললেন। জামায়াত সংগঠনকে করলেন প্রশ্নবিদ্ধ। জনাব গাজী নজরুল তো চীরতরে লোকচক্ষুর অন্তরালে বা রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়ে গেল। তাঁহার জীবনের ভালো আর মন্দ কাজকে সঠিকভাবে জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কিছুই বলবেন না। ভবিষ্যতে যাহাতে এ ধরনের চরিত্রহীনদের জন্ম না হয় আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জীবনের পাপ পুণ্যের হিসাব উন্মোচন করে জাতির সামনে প্রকাশ করা। মরিয়ম ও তাহার পরিবারকে জীবন্ত কবর দেননি, খবর নিলে জানতে পারবেন ক্ষমতার দাপটে কত পরিবারের ক্ষতি করেছেন তাহার তালিকা উদ্ধার করে জাতির সামনে প্রকাশ করা সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে যাহাতে এসব চরিত্রহীনদের সাধারন মানুষ সহজে চিনতে পারে। জনাব নজরুল তিনি কিন্তু চারবারের নির্বাচিত এমপি । সে জন্য তাঁহার ক্ষমতার কাছে সাতক্ষীরাবাসী ছিল অসহায়। তাহার ক্ষমতার কাছে এতদঞ্চলের মানুষ অনেকটা জিম্মি হলেও, এখন সাংবাদিকদের প্রধান কাজ হবে অত্র অঞ্চলে তাহার দ্বারা যত অপকর্ম বা সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাহা উদঘাটন করা। সরকারের আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে তাঁহার কথিত গোপন জীবনের সকল অপকর্ম প্রকাশ করা এবং শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পাপ বাপকেও ছাড়ে না এ কথাটি শতভাগ সত্য প্রমান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যেহেতু গাজী নজরুল ইসলাম এমপি এর রাজনৈতিক অপমৃত্যু হয়ে গেছে, সেহেতু তাহার দ্বারা যতসব অপকর্ম হয়েছে তাহা উন্মোচন করা। কারণ একজনকে সঠিকভাবে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় চরিত্রহীনদের জন্ম হবে না। যেহেতু জনাব নজরুল আইন প্রণেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, সেহেতু তাহার দায়িত্বকালীন সময়ে নির্বাচনী এলাকার সাধারন জনগণকে নিয়ে ভাল বা মন্দ কাজকে প্রকাশ করার সুযোগ করে দেওয়া। সরকারের কাজ হবে গাজী নজরুলের রাজনৈতিক পতনের কাহিনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। যাহাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরিত্রহীনদের জন্ম না হয়। জাতিকে শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া।
রাজনীতিতে অঘোষিত প্রথা চালু আছে নেতাকে খুশি করা। তবে গাজী নজরুল তো আর ভাবেননি সামান্য সময়ের জন্য ১৯ বছরের মরিয়ম (কথিত নাতিন) তাহার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে তছনছ করে অপমৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে পৌঁছাবে, সেটা কখনো তিনি কল্পনা করেননি। কারন ক্ষমতার দাপটের কাছে উচ্চ মহলে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থাতো ওপেন সিক্রেট। তবে সাধু বাবারা সাবধান! মরিয়মরা সব জায়গায় যেতে পারেন। গন্ধুম খাওয়া না হলে আদম আর হাওয়া সৃষ্টি হতো না।
লেখক, সভাপতি- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাঃ ০১৮১৯—১৭৬২১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৮৩১-১৬৯৯৮৫
ই-মেইল: thedailysylhetkantha@gmail.com