নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর সিলেটের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে স্থলবন্দরটি দিয়ে কয়লা আমদানি শুরুর ব্যাপারে ভারতীয় রফতানিকারকরা সিলেটের আমদানিকারকদের আশ্বস্থ করেছেন।
শেওলা দিয়ে কয়লা আমদানি শুরুর খবরে সিলেটের ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। ভারতের আসামের বিভিন্ন স্থানে ভঙ্গুর সেতু ও সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পুণরায় কয়লা আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আমদানিকারক সূত্র জানায়, সিলেট সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ে প্রচুর কয়লা খনি রয়েছে। এসব খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা সিলেটের তামাবিল ও শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসে। অবস্থানগত কারণে কিছু খনির কয়লা মেঘালয় থেকে তামাবিল দিয়ে আসে। আবার কিছু কয়লা আসাম হয়ে শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা।
স্বল্প সময়ে ও ছোট ছোট এলসি দিয়ে আমদানির সুযোগ থাকায় ভারতের মেঘালয়ের কয়লার দিকে ঝোঁক বেশি সিলেটের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আসামের কিছু স্থানে সড়ক ও সেতু দুর্বল হয়ে পড়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দিক থেকে সুতারকান্দি দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক আমদানিকারক এলসি করেও কয়লা আনতে পারেনি। সীমান্তের ওপারে আটকে যায় তাদের এলসি করা কয়লা। এতে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন তারা।
এদিকে, অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইটভাটার মৌসুম। এসময় সিলেটসহ সারা দেশেই কয়লার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কয়লার যোগান দিতে না পারলে ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা আদায়ও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো।
এমতাবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর শেওলা স্থলবন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভারতের করিমগঞ্জের আমদানিকারক-রফতানিকারক এবং সিলেটের কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ ও জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভারতের ব্যবসায়ীরা জানান, শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানিতে যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। যেসব স্থানে সড়ক ও সেতু ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল সেগুলো সংস্কার হয়েছে। তাই অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাঁরা কয়লা রফতানি শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও সভায় সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা জানান, সিলেটের আমদানিকারকরা ভারতের মেঘালয়ের কয়লার উপর নির্ভরশীল। দূরত্ব কম হওয়ায় সকালে এলসি করলে বিকেলে ভারতীয় কয়লার গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া ট্রাক দিয়ে পরিবহন করার সুযোগ থাকায় ছোট ছোট এলসি দিয়েও কয়লা আমদানির সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। এতে আমদানিকারকরা মেঘালয়ের খনির কয়লা আমদানিতে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, মৌসুমের শুরুতে কয়লা আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিলেন ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রফতানিকারকরা সুখবর দিয়েছেন। প্রায় ৮ মাস পর সিলেটের সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হবে। মৌসুম শুরু হওয়ায় সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়েও কয়লা আমদানি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৮৩১-১৬৯৯৮৫
ই-মেইল: thedailysylhetkantha@gmail.com