স্টাফ রিপোর্টার:
একজন বর্তমান, আরেকজন সাবেক। দু’জনই সিলেটে ব্যাপক আলোচিত- সমালোচিত। তারাই এখন সিলেটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
একজন বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদ। অপরজন সাবেক পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত এক চরিত্র। তাকে ওএসডি করা হয়েছে। সরকার সোমবার দুপুরের দিকে মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আলোচনার কারণ, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর লুটের সাম্প্রতিক দেশ কাঁপানো ঘটনা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয় সারাদেশে। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার।
অথচ এসময়টাতেও শের মাহবুব মুরাদ প্রশাসনের কোনো ত্রুটি দেখেন নি! তার এমন বক্তব্য প্রচারের পর অনেকে প্রতিবাদ করেন। নিন্দার ঝড় উঠে।
এরপর রবিবার ( ১৬ আগস্ট) ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে। পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
তারই কয়েক ঘন্টা পর সোমবার তাকে ওএসডি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হলো। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেট মহানগরীতে অনেকে মিষ্টিও বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, শের মাহবুব মুরাদকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কোর্ট পয়েন্টের সমাবেশে তীব্র ভাষায় আক্রমন করে বক্তব্য রেখেছিলেন।
আলোচনার কেন্দ্রে এখন সিলেটের সাবেক পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বিপিএম, পিপিএম- সেবা। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে সিলেটের পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছিলেন ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত। তার সময়েই ৪ বছর আগে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সিলেটের আখালিয়া এলাকার সন্তান রায়হানকে। আসামী আকবরের গ্রেফতার নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়লেও পরে তিনি প্রশংসিতও হন।
যদিও সিলেটবাসীর ধারণা, সবার সম্মিলিত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে। তারপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগ ছাত্রলীগসহ সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেও তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।
তিনি সিলেট থেকে এপিবিএনের অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অবশ্য সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি খরপোষ ভাতা পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

