নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সিলেটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিভাগের চাহিদার তুলনায় ৫০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এর বড় প্রভাব পড়ছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।
সিলেটের পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তিথি হালদার জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে লোডশেডিংয়ের কারণে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অভিভাবকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিন-রাত সমান তালে লোডশেডিং চলায় ব্যবসা খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সন্ধ্যা ৭টার আগেই দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব সুফল তারা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পিক আওয়ারে সিলেট বিভাগে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, আমাদের যা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তার পরোটাই গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটবাসীর প্রশ্ন এই ভোগান্তির অবসান কবে? দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে জনজীবনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

