সিলেটবুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. প্রবাস
  10. বিচিত্র সংবাদ
  11. বিনোদন
  12. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  13. ব্রেকিং নিউজ
  14. মতামত
  15. রাজনীতি

বিক্ষোভ ঠেকাতে ফ্রান্সে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

admin
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক:
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের পর আগামী শনিবারের সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার। এদিন পুলিশের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, সহিংসতা দমনে সেন্তিনেল বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে, যাতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী জেন্ডার্মস সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারেন।

শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশেরও ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। কট্টর বামপন্থিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভের সুযোগ নিয়েছে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো। কিছু এলাকায় বামপন্থি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের তৎপরতাও দেখা গেছে। এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন অভিমুখে মিছিল করতে দেওয়া হবে না।

গত সোমবার সেন্ট্রাল প্যারিসসহ ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের কিছু এলাকা এবং আরও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মার্সেই শহরের কিছু এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকরের খবর পাওয়া গেছে। মার্সেইয়ে এ পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গত শনিবারের সহিংসতায় মার্সেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের হিসাবে, শহরটিতে পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহিংসতায় সারাদেশে ১১৮ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ ইউনিয়নের কর্মকর্তা আর্নড ব্লেস এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সহিংসতার মাত্রা ছিল নজিরবিহীন। বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছে কট্টর বামপন্থি ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রায় চার হাজার টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়েছিল। এক পর্যায়ে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশকে পিছু হটতে হয়।

গত সোমবার মার্সেই সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজ শহরের মেয়র বেনোয়া পায়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে মেয়র বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের সদস্য সংখ্যা ও মোতায়েনের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালালে ভবিষ্যতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে।

ফ্রান্সে সহিংসতার মধ্যে অভিবাসীবিরোধী তির্যক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আলজাজিরার খবর বলছে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই ধারাবাহিকতা।