সিলেটসোমবার , ২৮ নভেম্বর ২০২২
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. প্রবাস
  10. বিচিত্র সংবাদ
  11. বিনোদন
  12. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  13. ব্রেকিং নিউজ
  14. মতামত
  15. রাজনীতি

বড়াকোঠা ও ডাকবাংলো গণহত্যা

দৈনিক সিলেট কন্ঠ
নভেম্বর ২৮, ২০২২ ৬:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুতুব আজাদ:
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ প্রকল্পের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রের ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন নির্ঘণ্ট গ্রন্থমালা’র আওতায় এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কিত অনেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থমালার ১১২-১১৩ নম্বরের বিষয় দুটি হচ্ছে গবেষক-অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান শাহীন রচিত ‘বড়াকোঠা গণহত্যা’ এবং অধ্যক্ষ আরজু নাসরিন পনি কৃত ‘ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো গণহত্যা’।

‘বড়াকোঠা গণহত্যা’ অংশে ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানটির তত্কালীন অবস্থা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, গণহত্যা-নির্যাতনের পটভূমি ও বিবরণ, গণহত্যা নির্যাতনকারীর পরিচয়, ৮ জন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর মৌখিক ভাষ্য, শহিদ পরিবারের ৫ জন সদস্যের মৌখিক ভাষ্য, তাঁদের জীবন-সংগ্রাম, স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়াসসহ মূল্যায়নে বিন্যস্ত হয়েছে। এই অংশের শেষে ৭০ জন শহিদের শনাক্তকরণ তালিকা এবং ১৩ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারসহ তথ্যপঞ্জি সংযোজিত।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে (মার্চ-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনকল্পে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্যাম্প আক্রমণকালে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অন্যতম দৃষ্টান্ত বড়াকোঠা গণহত্যা। এই গণহত্যায় নির্বিচারে হিন্দু নিধনসহ অনেক শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়ন বিল ও জলমগ্ন হওয়ায় পাকবাহিনী এ অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যায় গানবোট ও স্পিডবোট ব্যবহার করে। ফলে, মুক্তিযুদ্ধকালীন বড়াকোঠায় আত্মোৎসর্গকৃত শহিদের পরিচয় জানা যায়নি।

ভূমিকা, ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানটির তত্কালীন অবস্থা, পরিপার্শ্ব, গণহত্যা-নির্যাতনের পটভূমি ও বিবরণ, ৩ জন শহিদের জীবনী, গণহত্যা-নির্যাতনকারীর পরিচয়, সংশ্লিষ্ট জীবন-সংগ্রাম, স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়াস ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাকবাংলো গণহত্যা’ অংশটি বিন্যস্ত। এই অংশের শেষে ১৫ জন শহিদের শনাক্তকরণ তালিকা ও তথ্যাদি সংযোজিত হয়েছে।

ডাকবাংলো গণহত্যায় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। এগুলো হচ্ছে, শহিদের তালিকায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার অন্তর্ভুক্তি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষজনকে ডাকবাংলোয় আটক, স্থানীয় আলবদরের সহায়তায় হত্যাযজ্ঞ সংঘটন, হত্যার পর অধিকাংশ লাশ ব্রহ্মপুত্র নদে নিক্ষেপ প্রভৃতি।

১৯৭১ সালের নয় মাসব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় ‘পোড়ামাটির নীতি’ অবলম্বনে বাংলাদেশের সর্বত্র গণহত্যা সংঘটিত করে। বাংলাদেশের গণহত্যার ইতিহাস ব্যতীত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাসে গ্রন্থটির তাত্পর্য অনস্বীকার্য। উন্নত ছাপা ও উত্কৃষ্ট কাগজে এক মলাটে গণহত্যার দুটি ঘটনা অনুসন্ধিত্সু গবেষক ও পাঠককে প্রভূত সহায়তা করবে।