সিলেটমঙ্গলবার , ২৩ জুন ২০২৬
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. প্রবাস
  10. বিচিত্র সংবাদ
  11. বিনোদন
  12. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  13. ব্রেকিং নিউজ
  14. মতামত
  15. রাজনীতি

সিলেটে শিশু ফাহিমার খুনি জাকিরকে আদালতে গণ পিটুনি

admin
জুন ২৩, ২০২৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে আদালতে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) হাজতখানা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষনচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকে সে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে।

মঙ্গলবার শিশু ফাহিমা ধর্ষনচেষ্টা ও হত্যা মামলার আদালতের পূর্ব নির্ধারিত ধার্য্য তারিখ ছিল। ওইদিন সকালে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়ার সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের সামনে জাকিরকে গণপিটুনি দেয়।

এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।

হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাত ৪টার দিকে ফাহিমার লাশ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির।

ভিকটিমের লাশ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি ভিকটিমের লাশ পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এসময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে লাশ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।