স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে আকস্মিক উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার এই হঠাৎ সফর ঘিরে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-খুন নিয়ে ডকুমেন্টারি করা হচ্ছে। সেই ডকুমেন্টারির শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে শনিবার সকালে সিলেট আসার পর তিনি সরাসরি তামাবিল সীমান্ত এলাকায় পৌছান এবং সেই স্থান পরিদর্শন করেন। শুটিং শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ আবার ঢাকায় ফিরে যাবেন।
এদিকে বিমানবন্দরে সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের শামীমসহ আরও অনেকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদের এই সফর ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে। তাঁর এই সফর শুধু একটি ‘সৌজন্য আগমন’ নয় বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং এটি হতে পারে আসন্ন জাতীয় রাজনীতিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠন ও আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি নিয়ে কোনো বার্তা বা দিক-নির্দেশনা দিতে এসেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদের সিলেট আগমনের কারণ জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘২০১৫ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে সিলেটের তামাবিল সীমান্তে গুম হওয়ার বিষয়ে একটি ডকুমেন্টারির শুটিং করতে তিনি সিলেটে এসেছেন। ডকুমেন্টারির শুটিং শেষ হলে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে যাবেন।’ সিলেটে নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো আলোচনা কিংবা সভা হবে কি- না এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রোগ্রাম নেই।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মে সন্ধ্যায় তাকে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের শিলং নেয়া হয় বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন। গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর তাকে ভারতের শিলং-এ পাওয়া যায়। শিলংয়ে আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবেলা করার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফিরেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনার তদন্ত করতে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), কোস্টগার্ডসহ দেশের আইন প্রয়োগকারী বা বলবৎকারী কোনো সংস্থার সদস্যের হাতে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও তদন্তের জন্য এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।
দেশে ফেরার ১০ মাস পর, ৩ জুন, সালাহউদ্দিন আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তিনি সরাসরি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গিয়ে এই অভিযোগ জমা দেন।

