স্পোর্টস ডেস্ক :
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নকআউট পর্ব শুরু করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখা কার্লো আনচেলত্তির দলকে অবশ্য এখান থেকে পেছনে ফেরা যাবে না। পা হড়কালেই শেষ সেই স্বপ্ন। ফলে কোনো ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলসহ গ্রুপপর্ব পেরিয়ে আসা ৩২ দলের। অবশ্য যাদের লক্ষ্যটা বড়, তাদের টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত কোন গতিপথে চলতে হবে সেই অঙ্কও কষতে হচ্ছে!
আজ (সোমবার) রাত বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২–এর ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এশিয়ান জায়ান্টদের টপকাতে পারলেও অবশ্য আনচেলত্তির চিন্তা আরও বাড়বে। সামনের যাওয়ার রাস্তাটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে সেটি মানছেন ব্রাজিল কোচ নিজেও। আপাতত জাপান ম্যাচের দিকেই তার মনোযোগ।
আজকের ম্যাচে জিতলে শেষ ষোলোয় জায়গা পাবে ব্রাজিল। ২০০২ বিশ্বকাপে তারা নিজেদের পঞ্চম ও শেষ শিরোপা জিতেছিল। এরপর আরেকবার বিশ্বসেরার মুকুট পরার অপেক্ষা চলছে ২৪ বছর ধরে। এর মাঝে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ছাড়া বাকি চার আসরে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমেছে ব্রাজিলের দৌড়। এবার সেই কোয়ার্টার ফাইনালও কিছুটা দূরে। ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট হওয়ায় শেষ ৩২ ও ১৬ রাউন্ড পেরোতে হবে।
জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠলে ব্রাজিল পাবে নরওয়ে কিংবা আইভরি কোস্টকে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে এই দুটি দল পরস্পর লড়বে আগামীকাল (মঙ্গলবার) রাত ১১টায়। বিজয়ী দল শেষ ষোলোয় পাবে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচে বিজয়ীদের। কোয়ার্টারে উঠলে ব্রাজিল লড়বে ইংল্যান্ড-গণতান্ত্রিক কঙ্গো ম্যাচে বিজয়ী দলকে। সে হিসেবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংলিশদেরই তাদের পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সেমিফাইনালে ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল এবারও বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্যে নেমেছে। শতভাগ জয়ে গ্রুপপর্বও পার করেছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ ৩২–এ তারা পেয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দেকে। গতিপথ ঠিক থাকলে সেমিফাইনালেই দেখা হয়ে যেতে পারে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার।
সেমিতে দুই লাতিন পরাশক্তির দেখা হলে অবশ্য ফুটবলভক্তদের পছন্দের একটি দলকে বিদায়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে জয়ী দল ফাইনালে লড়বে ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১টায়। এর আগে ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে শুরু হওয়া শেষ ৩২ রাউন্ড চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ৮ জুলাই পর্যন্ত শেষ ১৬, ৯-১২ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৫-১৬ জুলাই সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই হবে ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে।
প্রসঙ্গত, ব্রাজিলও ‘সি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট নিশ্চিত করে। গ্রুপপর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ সমতায় শেষ করলেও শেষ দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ড উভয়কেই সমান ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আনচেলত্তির দল।

