সিলেটশনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  1. আইন-আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. উপ সম্পাদকীয়
  4. খেলা
  5. ছবি কথা বলে
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. প্রবাস
  10. বিচিত্র সংবাদ
  11. বিনোদন
  12. বিয়ানী বাজার সংবাদ
  13. ব্রেকিং নিউজ
  14. মতামত
  15. রাজনীতি
সবখবর

জকিগঞ্জে এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে শীর্ষে হাফছা মজুমদার কলেজ

admin
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা:
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে এবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা, উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার ৯টি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি জিপিএ-৫ এসেছে এ কলেজ থেকে। ফলাফল শিট অনুযায়ী, কলেজটির পাসের হার ৭৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ২৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১৮৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৬২ জন। এ কলেজ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বারহাল ডিগ্রি কলেজ। এ কলেজ থেকে ১৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫১ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পেলেও ফলাফল শিটে কলেজটির পাসের হার ৭০ দশমিক ০৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ২৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩০ জন। কোনো জিপিএ-৫ না পাওয়া এ কলেজের পাসের হার ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ইছামতি ডিগ্রি কলেজ থেকে উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১৬৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৮৪ জন। এ কলেজ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

শাহবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ জন। কলেজটির পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ৩৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ১২৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২২০ জন। এ কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ফলাফল শিট অনুযায়ী কলেজটির পাসের হার ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এ ছাড়া লুৎফুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ২০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫১ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

গণিপুর কামালগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন ৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৭ জন। কলেজটির পাসের হার ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৮ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি। কলেজটির পাসের হার ১৫ শতাংশ।

উপজেলার ৯টি কলেজের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১ হাজার ৩১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৬৬০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৫৭ জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী সম্মিলিত পাসের হার ৫০ দশমিক ১১ শতাংশ। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এককভাবে ৫টি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

ফলাফলে হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের এ সাফল্য উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির এগিয়ে থাকার চিত্র তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ৯টি কলেজের মধ্যে সাতটির পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে হওয়ায় উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

সচেতন মহল মনে করেন, আগামীতে ফলাফলের উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।

এদিকে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে এবারও উপজেলার শীর্ষস্থান ধরে রাখায় হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।