স্টাফ রিপোর্টার:
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বিয়ানীবাজারেও এখন জমজমাট গ্রামীণ রাজনীতি। নানা কৌশলে এলাকার ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তৈরিতে তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রতিদিনই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শোনা যায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের হাকডাক। পাশাপাশি প্রভাবশালী নেতা-এমপির সুনজরে আসার চেষ্টায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়প্রত্যাশীরা। এদিকে নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিলেট জেলা বিএনপি থেকে এখনো স্পষ্ট কোন নির্দেশনা না আসায় বাছাই কার্যক্রমও শুরু করতে পারছেনা বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন নির্বাচন আসতে মাত্র কয়েকমাস বাকী থাকলেও বিয়ানীবাজার উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপি এখনো গুছিয়ে ওঠতে পারেনি। উপজেলায় মোট ১০টি ইউনিয়ন আছে। এরমধ্যে দু’টি ইউনিয়নে বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন নির্বাচনে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং জেলা থেকে জোর দেয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় বেশীরভাগ ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও কোন প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাই হবে কিংবা মনোনয়নের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকা করার কোন নির্দেশনা না থাকায় অনেকটা অন্ধকারে আছেন উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলরা।
এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ, এলাকার জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত গ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা করা হবে।
জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগরে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক একাধিকবারের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন। এ ইউনিয়নের বিএনপির অন্য কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। চারখাইয়ে সিলেট জেলা বিএনপি নেতা অহিদ আহমদ তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান আহমদ চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন। শেওলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আখতার হোসেন খান জাহেদ ও যুবদলের আহবায়ক আব্দুল করিম তাজুল মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে। দুবাগে উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুল কিবরিয়া, দারুল ইসলাম দারা ও বর্তমান ইউপি সদস্য নিয়াজ উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। কুড়ারবাজারে উপজেলা বিএনপি নেতা জুবের আহমদ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাথিউরায় সিলেট মহানগরীর বিএনপির উপদেষ্ঠা আব্দুল ফাত্তাহ বকসি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কছির আলী আব্দুর রব, সিলেট জেলা যুবদল নেতা সাকের মাহমুদ ও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এনামুল ইসলাম জোর লবিং অব্যাহত রেখেছেন। তিলপাড়ায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও একাধিকবারের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়ফুল ইসলাম সায়েক ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী জনসংযোগ করছেন। মুল্লাপুরে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও একাধিকবারের চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান, সিলেট জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ ও উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল করিম নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। লাউতায় বিএনপির মনোনয়ন পেতে চান আব্দুল জব্বার, উপজেলা জাসাস আহবায়ক মুজিবুর রহমান ও ছাত্রদল নেতা আবিদ রাজা। মুড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন পতে আগ্রহী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ। যদিও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে চারখাই, মুল্লাপুর ও মাথিউরা ইউনিয়নে।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কেন্দ্র বা জেলা আমাদের কোন নির্দেশনা দেয়নি। তাছাড়া স্থানীয় নির্বাচন হয় আঞ্চলিক ভিত্তিতে। সূতরাং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দল কিভাবে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিবে, তা এখনো বোধগম্য নয়।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন অপরিহার্য।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত পছন্দের এমন অনেক প্রার্থীও রয়েছেন এলাকার সাধারণ জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে। আবার অনেকে আছেন এলাকায় জনপ্রিয়। কিন্তু নেতাদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা নেই।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন জানান, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া দলীয় মনোনয়ন দিলে ভোটের মাঠে হিতে বিপরীত হতে পারে।

